যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) আজকের সভার ফলাফল নিয়ে কৌতূহলের সঙ্গে অপেক্ষা করছে সারা বিশ্ব। কেননা আগের যেকোনো বৈঠকের তুলনায় এবারেরটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মাঝে রয়েছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। এ সভা শুধু সুদহার কর্তন হবে কিনা সে সিদ্ধান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের।
এপির এক প্রতিবেদন অনুসারে, এফওএমসির এ সভায় কারা ভোট দেবেন সে প্রশ্নও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঝুলে ছিল। সিনেটে স্বল্প ব্যবধানে অনুমোদন পাওয়ার পর এ সভায় যোগ দিচ্ছেন হোয়াইট হাউজের জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মিরান। অন্যদিকে গভর্নর লিসা কুককে অপসারণের চেষ্টা চালিয়েও সফল হননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন আপিল আদালত কুককে দায়িত্বে বহাল রেখেছেন। তবে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় মার্কিন অর্থনীতিতে মিশ্র পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশটিতে কর্মসংস্থান বাড়ছে খুব ধীরে। জুনে চাকরির হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, ১৩ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। আগস্টে যোগ হয়েছে মাত্র ২২ হাজার নতুন চাকরি, যেখানে প্রত্যাশা ছিল ৭৫ হাজারের। বার্ষিক ভিত্তিতে সমন্বয় করে দেখা যাচ্ছে, মার্চ পর্যন্ত সর্বশেষ ১২ মাসে প্রাথমিক প্রতিবেদনের তুলনায় ৯ লাখ ১১ হাজার কর্মসংস্থান কম তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি এখনো লক্ষ্যমাত্রার ওপরে। আগস্টে মূল ভোক্তা মূল্যসূচক সিপিআই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ।
ফেডের দায়িত্ব হলো মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা। যার প্রতিফলন দেখা যায় মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির মুদ্রানীতিতে। ফলে সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলছেন, কোন বিষয়কে ফেড বেশি গুরুত্ব দেবে—ধীরগতির নিয়োগ, নাকি উচ্চ মূল্যস্ফীতি?
চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলসহ অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তারা এখন কর্মসংস্থানের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন। তাই বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, ফেড ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে সুদহার প্রায় ৪ দশমিক ১ শতাংশে নামাতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি এখনো বেশি হওয়ায় সুদহার কমানোর গতি ধীর হতে পারে।
আজকের বৈঠকে ফেড তাদের প্রান্তিকভিত্তিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রকাশ করবে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এ পূর্বাভাসে চলতি বছর এক-দুইবার সুদহার কমানোর ইঙ্গিত থাকতে পারে। আগামী বছর আরো কয়েক দফা সুদহার কর্তনের সম্ভাবনাও দেখা যেতে পারে।
নীতিনির্ধারণে ভিন্নমতের সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন বোর্ড সদস্য স্টিফেন মিরান ও গভর্নর মিশেল বোম্যান বেশি মাত্রায় কাটছাঁট চাইতে পারেন। ৫০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত সুদহার কমানোর পক্ষে থাকতে পারেন তারা। অন্যদিকে কিছু আঞ্চলিক ব্যাংকের গভর্নররা কোনো কাটছাঁটেই রাজি নন। তাদের মতে, মূল্যস্ফীতি অনেক দিন ধরেই লক্ষ্যমাত্রার ওপরে আছে।
ফেডের ওপর রাজনৈতিক চাপও এখন নজিরবিহীন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সুদহার দ্রুত ও বড় আকারে কমানোর দাবি করছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ের ফেড চেয়ারম্যানের সমালোচনা করছেন। তবে ক্লিভল্যান্ড ফেডের সাবেক গভর্নর প্রেসিডেন্ট লরেটা মেস্তার মনে করেন, নীতিনির্ধারকরা স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এমন আক্রমণ জনমানসে ফেডের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।